সোমবার ২২ জুন ২০২৬ - ০৯:০৯
প্রতিরোধ আন্দোলন ও হিজবুল্লাহকে ধ্বংসের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে

লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম বলেছেন, হিজবুল্লাহ ও আঞ্চলিক প্রতিরোধ আন্দোলনকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পনা ছিল; কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাইখ নাঈম কাসেম বলেন, লেবাননে পরিচালিত ‘আসফে মা'কুল’ অভিযানের সময় প্রায় ১০ হাজার বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু এত ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের পরও প্রতিরোধ আন্দোলন অটুট রয়েছে। ইরান ও অঞ্চলের প্রতিরোধ শক্তিকে ধ্বংসের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এখন একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা হয়েছে, যার ফলাফল মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনার পরাজয়।

তিনি বলেন, “ইসরায়েলি আগ্রাসন ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে ইসরায়েলিরা এখনো পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে পরিবর্তনের আশায় রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বিপুল ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের মধ্য দিয়ে ইরান আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, তারা নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াবে না। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বরের আগ্রাসন বন্ধের চুক্তি ইসরায়েল মেনে চলেনি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মাধ্যমে আরব বিশ্বের প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতৃত্বকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।

শেখ নাঈম কাসেম বলেন, “ইসরায়েলের জন্য অবাধ কার্যক্রমের সুযোগ রেখে যে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়, তা আগ্রাসনেরই ধারাবাহিকতা; আমরা তা মেনে নিই না।”

তিনি বলেন, ২৭ নভেম্বরের চুক্তির পর গত ১৫ মাসেও তারা এ ধরনের প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। প্রতিবার প্রতিরোধপক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও শত্রুপক্ষ তা লঙ্ঘন করেছে। বর্তমানে তারা ইসরায়েলি পরিকল্পনা ভেঙে দেওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধবিরতি মানে শত্রুপক্ষের প্রত্যাহারের আগে সব ধরনের আগ্রাসনের সম্পূর্ণ অবসান।

তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বলতে আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে সব ধরনের হামলা বন্ধ হওয়া, ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হওয়া এবং অধিকৃত এলাকায় নতুন করে কোনো বাহিনী মোতায়েন না করাকেই বোঝায়।

শেখ নাঈম কাসেম বলেন, “ইরানের পক্ষ থেকে আমরা শক্তিশালী সমর্থন পেয়েছি। চুক্তির প্রথম ধারাতেই লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ করা এবং দেশটির প্রতিরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।”

লেবানন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাদের ছাড় দেওয়া ছাড়া আর কী অর্জিত হয়েছে?” তিনি আরও বলেন, “প্রতিরোধ আন্দোলন ও ইরান যা করছে, তা থেকে শিক্ষা নিন। মহান ইরানকে দেখুন, যে লেবাননের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার কথাও বিবেচনা করে। এটি আপনাদের হাতে একটি শক্তিশালী উপায়—হে লেবানন সরকার।”

তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া এ মাত্রার আগ্রাসন সম্ভব হতো না। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইলে এই আগ্রাসন বন্ধ করতে পারেন।”

তিনি বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে দখলদার বাহিনীর উপস্থিতি স্থায়ী হতে পারে না এবং দখলদারত্বের মধ্যে কোনো অঞ্চলই নিরাপদ নয়। লেবাননের একটি জাতীয় সেনাবাহিনী রয়েছে, যা দেশের মাটিতে মোতায়েন একমাত্র সরকারি বাহিনী এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের রক্ষক; হিজবুল্লাহ সেই বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করে।

সবশেষে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, “লেবাননে কোনো গোষ্ঠী অন্য কোনো গোষ্ঠীর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করবে না। পারস্পরিক সহাবস্থান ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই লেবানন শক্তিশালী হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, যে সরকার শত্রুর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য এত আগ্রহী, তারা যেন লেবাননের জনগণের প্রতি বৈরিতা বৃদ্ধি না করে। একই সঙ্গে তিনি মারাদা আন্দোলনের নেতা সুলায়মান ফ্রাঞ্জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান, যিনি নিজের নীতিগত অবস্থানে অবিচল থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha